ভালো সাক্ষাৎকারের জন্য করণীয়

সাক্ষাৎকারের পূর্বে:
• কোম্পানী সম্পর্কে ধারণা বা জ্ঞান রাখা
• বিশেষত্ব কর্মচারীর সংখ্যা
• সাক্ষাৎকারের জন্য পোশাক নির্বাচন করা।
• নিদিষ্ট সময়ের পূর্বে পৌছে যাওয়া (১০/১৫ মিনিট আগে)
• দেরী হলে তা পূর্বে অবগত করা

অভ্যর্থণা কক্ষ
• ধৈর্য্য সহকারে অপেক্ষা করুন
• বিনয়ী হোন
• প্রস্তত থাকুন কোন বিবৃতির জন্য যা কোম্পানীর তথ্য প্রদান করে।

সাক্ষাৎকারের সময়
দৈহিক ভাষা সম্পর্কে সচেতনতা অবলম্বন করা। যেমন :-
• হাঁটুন পরিচ্ছন্নভাবে
• সাবলিল থাকুন
• বিনয়ী হোন
• ভালো অঙ্গস্থিতি রাখুন
• সুষ্পষ্ট দৃষ্টি বিনিময় করুন
• উষ্ণ করমর্দন করুন
• হাসিমুখে থাকুন
• মনোযোগ সহকারে প্রশ্নগুলো শুনুন এবং বলার পূর্বে ভেবে বলুন।

সাক্ষাৎকারের শেষে
• কাজটির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করুন
• প্রশ্ন করুন (যদি থাকে)
• নিশ্চিত হোন পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য
• সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানান
• করমর্দন করুন

সাক্ষাৎকারের পরবর্তী পদক্ষেপ
• মূল্যায়ন করুন আপনি কেমন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। কোথায় ভুল ছিল। কোনটা ভালো বলেছেন। কেন আপনার চাকরি হওয়া উচিত, কেন হওয়া উচিৎ নয় ? ইত্যাদি।
• সাক্ষাৎকারের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ পত্র প্রেরন
• সপ্তাহ খানেক পরে টেলিফোনে বা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা।
ইন্টারভিউ প্রস্তুতির চেকলিস্ট

প্রতিটি ইন্টারভিউর আগে আপনি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন কি না তা পরখ করার জন্য নিচের চেকলিস্ট অনুসরণ করুন। যেমন-

একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য নিজের সম্পর্কে কমপক্ষে পাঁচটি গুণ আমার আছে।
হ্যা না

চাকরিটি প্রাপ্তিতে নিজেকে যোগ্য করে তোলার জন্য আমি আমার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাগুলো উপস্থাপন করতে পারব।
হ্যা না

আমার যথেষ্ট প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা আছে যা চাকরিটির জন্য আমাকে যোগ্য করে তোলে।
হ্যা না

আমার এমন কিছু শখ ও কর্মকান্ডের অভিজ্ঞতা আছে যা চাকরিটির জন্য আমাকে যোগ্য করতে সহায়তা করতে পারে।
হ্যা না

যদি আমাকে আমার "পার্সোনাল রেফারেন্স" সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে আমি এমন তিনজনের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর উল্লেখ করতে পারবো যারা আমার রেফারেন্স হতে সম্মত আছে।
হ্যা না

ইন্টারভিউতে উপস্থিত হওয়ার জন্য মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন পোষাক পরেছি।
হ্যা না

আমি ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করার জন্য আমি কিছু প্রশ্ন তৈরী করেছি।
হ্যা না

ইন্টারভিউতে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমি যথোপযুক্ত পরিবহন রুট ও পরিবহন নির্দিষ্ট করেছি।
হ্যা না

চেকলিস্ট আরো কোন অপশন যুক্ত করার থাকলে যুক্ত করতে পারেন। এরকম চেকলিস্টের কয়েকটি কপি তৈরী করে রাখুন যাতে সকল ইন্টারভিউর আগে তা ব্যবহার করা যায়।

ইন্টারভিউ রোর্ডে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারলেই আপনি ভাবতে পারেন যে আপনার ক্যারিয়ার উন্নতির দিকে যাবে। সুতরাং ইন্টারভিউর জন্য সার্বক্ষণিক মানসিক ও প্রায়োগিক প্রস্তুতি রাখুন।

পেশা ব্যাপারটিকে পেশাদারিত্বের সাথেই নিতে হবে। আপনি যে কাজে দক্ষ সেই সংশ্লিষ্ট পেশা নেওয়ার উপরেই নির্ভর করছে আপনার এবং প্রতিষ্ঠানের বিকাশ। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোন পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ প্রার্থীকেই নিয়োগ দিয়ে থাকে।

অতএব চাকরি পাওয়ার ন্যূনতম শর্ত হলো এমন কোন পেশাদারী যোগ্যতা থাকা বাজারে যার কদর আছে। নিয়োগদাতা দেখতে চান আপনি আপনার কাজ বা দায়িত্বের প্রতি কতটা দক্ষ ও নিষ্ঠাবান হতে পারবেন। আপনার কাজের প্রতি সৃজনশীল মনোভাবও আপনার পেশঅদারীত্বের অংশ। সুতরাং নিয়োগদাতার কাছে নিজেকে যেমন পেশাদারী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা যায় এমনভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

আজকাল বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠানই তার কাজ ভাগ করে দিতে চায় একজন বিশেষজ্ঞকে। তাই নিয়োগের বেলায় পেশাদারী যোগ্যতাকেই বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়। আগে ইংরেজীতে ভাল বলতে ও লিখতে পারলে জনসংযোগ অফিসার বা তথ্য অফিসারের চাকরি হয়ে যেত। কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠান চায় পাবলিক রিলেশনের উপর ডিগ্রীধারী বা ডিপ্লোমা করা লোক। সুতরাং পেশাদারী মনোভাব ছাত্র থাকাকালিন সময়ে নেওয়া উচিৎ। লক্ষ্য রাখতে হবে নিজেকে কোন বিষয়ে কতটা দক্ষতা, বিশেষজ্ঞ ও আপগ্রেড করা যায়। নিজের লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান, সময়ানুবর্তী ও নিয়মানুবর্তী হওয়ার চর্চা করতে হবে। নিজেকে যতটা সম্ভব অফিসিয়াল বা ফর্মাল করে গড়ে তুলতে হবে। আগে সর্বস্ব হওয়াটা কোন ক্ষেত্রেই আপনার জন্য ভাল হবে না। উদাসীনতা তো নয়ই।

ইন্টারভিউতেও নিজের পেশাদারীর মনোভাব ফুটিয়ে তুলতে হবে। ইন্টারভিউর আগে আবেদনপত্র ও বায়োডাটা তৈরী এবং প্রণয়নের ক্ষেত্রে ফর্মাল প্রসেসস মেনে চলতে হবে। ইন্টারভিউর ডাক পাওয়া মাত্রই ধন্যবাদপত্র পাঠিয়ে দিতে হবে, ইন্টারভিউর পরেও। ইন্টারভিউতে নিজেকে মার্জিত ও ফর্মালভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কোন প্রকার আবেগ বা উচ্ছাস প্রকাশ করা পেশাদারীত্বের লক্ষণ নয়। নিয়োগদাতার মনে নিজের একটা ভাল ইমপ্রেশন তৈরী করতে পারলেই আপনার নিয়োগ পাবার সম্ভাবনা বাড়বে। সুতরাং পেশাদারী হন।

দেশে চাকরি নেই এই ধারণা মনের মধ্যে পুষে রাখলে হতাশাই বাড়বে। দেশে চাকরির সুযোগ তৈরী হচ্ছে, তবে যুগটা প্রফেশনালিজমের একই সাথে প্রতিযোগিতারও। এখন নিজেকেই যত বেশি দক্ষ করে তোলা যাবে, নিজের সুযোগ সম্ভাবনা তত বাড়বে। সুতরাং মনমতো পেশায় প্রবেশ করতে হলে মুখোমুখি হতে হবে বড় একটা চ্যালেঞ্জের। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে তৈরী করতে হলে আগে থেকেই একজনকে স্থির করতে হবে তার লক্ষ্য কি এবং কিভাবে তাতে পৌঁছানো যাবে। অর্থাৎ প্রয়োজন মাফিক ও সময়োপযোগী "ক্যারিয়ার প্ল্যান"। তবে নিজেকে কোন গন্ডির মধ্যে রেখে দিলে হবে না। সংশ্লিষ্ট সবগুলো পথ খোলা রেখে লক্ষ্যের দিকে চলতে হবে, তাহলেই নিশ্চিত হবে আপনার ভবিষ্যত।
সাক্ষাৎকারে প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী

ইন্টারভিউ একজনের পর একজনের হতে পারে আবার কয়েকজনের সমন্বয়ে একটা প্যানেল সাক্ষাৎকারও হতে পারে। তাই আপনাকে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্ততি নিতে হবে।
• ইন্টারভিউ এর সময় নিয়োগদাতা আপনার জীবন বৃত্তান্ত এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইবেন। এক্ষেত্রে উন্মুক্ত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনি কোম্পানীর জন্য নিজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারেন।
• সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে নিয়োগদাতা আপনাকে আর কিছু বলার আছে কিনা তা জানতে চাইতে পারেন। এক্ষেত্রে পূর্বে বাদ পড়েছে এমন বিষয় আলোচনা করে নিতে পারেন। সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ কী হবে তা খুঁজে বের করবেন এবং সবশেষে নিয়োগদাতাকে তার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাবেন।
• আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন। আপনার বক্তব্যে আপনার ব্যক্তিগত জীবনের চাইতে চাকরির দক্ষতা যেন বেশী প্রাধান্য পায়। আপনার ক্যারিয়ারের বিকাশ সর্ম্পকে বলুন। পূর্ব চাকুরির অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছেন বা চাকরি বহিভূর্ত স্বপ্রণোদিত কর্মকান্ডর মাধ্যমে অর্জিত সাংগঠনিক দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করুন।
• আপনার সামর্থ কী ? কোন সমস্যার সুন্দর সমাধানের জন্য আপনি আপনার সামর্থ নিয়ে কথাবলতে পারেন। কিছু উদাহরন রপ্ত করুন যা প্রশ্ন উত্তরে সাহায্য করবে।
• আপনার দূর্বলতা কী ? এটা খুব কঠিন প্রশ্ন, যদিও সবসময় এটা জিজ্ঞেস করা হয় না। কিন্ত এ জাতীয় প্রশ্নের জন্য আপনাকে প্রস্তত থাকতে হবে। আপনি যদি আপনার মেজাজ, অলসতা বা ধৈর্য্যের দুর্বলতা নিজের ভিতরে রাখুন এবং তা অন্যের নিকট প্রকাশ করবেন না।
• চাকরিদাতা তার কোম্পানী সর্ম্পকে আপনার কোন প্রশ্ন আছে কি না তা জানতে চাইতে পারে। তাই এই বিষয়েও প্রস্ততি থাকতে হবে। আপনি কোম্পানীর প্রকৃতি, সাংগঠনিক কাঠামো অথবা উৎপাদিত পন্য সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন। আপনি জিজ্ঞাসা করতে পারেন কোম্পানীর প্রশিক্ষন কর্মসূচী অথবা কাজের পরিবেশ সম্পর্কে।
• ১০ বছর পর আপনার পেশার অবস্থান কোথায় হবে ? এইরূপ প্রশ্নের উত্তরে এখানে খুব সাবধান থাকতে হবে। আপনার এমন মনোভাব থাকবে না যে, আপনি শুধুমাত্র ব্যবহৃত হচ্ছেন কোম্পানী বা অন্যের পেশার উন্নতি হিসেবে।নিজেকে কোম্পানীর ব্যবস্থাপক হিসেবে চিন্তা করে কোম্পানীর স্বার্থে কাজ করতে হবে। এখানে বলা যায় যে একজন তরুণ হিসাবরক্ষককে CPA Firm এর সাথে সাক্ষাৎকারের সময় এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন তিনি নিজেকে বড় কর্পোরেশনের মহা-হিসাবরক্ষক হিসেবে দেখেন। তার প্রশ্নের উত্তর অন্যভাবে বলা যায় প্রতিষ্ঠান তাকে প্রশিক্ষন ও সুযোগ দানের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করবে এবং সে চাকরি ছেড়ে দেবে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে। এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না তাকে চাকররি জন্য ডাকা হয়নি। প্রতিষ্ঠান জানে ৭৫% লোক আসে ১০ বছরের মধ্যে অন্যত্র সরে যেতে, কিন্ত প্রতিষ্ঠান চায় না কেউ চলে যাক।
• আপনার এমন দক্ষতা কি আছে যে, চাকরিদাতা কোম্পানী লাভবান হবে ? আপনি আপনার কি দক্ষতা উল্লেখ করতে পারেন যা যে কোন কোম্পানীর জন্য মূল্যবান। উদাহরনস্বরূপ : (১) দীর্ঘমেয়াদী Project পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সামর্থ্য (২) তথ্যবহুল উপাত্ত সংগঠিত করার সামর্থ্য (৩) জটিল বিষয় নিয়ে গবেষণা করার সামর্থ্য অথবা দলের ভিতরে থেকে কাজ করার সামর্থ্য। যদি আপনার দক্ষতা কোন নির্দিষ্ট জন্য সঠিক না হয়, তবে উল্লেখ করতে হবে অন্য অবস্থানে থেকেও দ্রুত এগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পারেন বা শিখতে পারেন কিনা। আবার নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে নিয়েও নিজেকে প্রস্তত করতে পারেন।
• পূর্বের চাকরি আপনি কেন ছেড়েছিলেন ? প্রথমেই প্রাক্তন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করবেন না। যেমন কথায় কথায় অভিযুত্ত করা হয় বা সে প্রাক্তন প্রতিষ্ঠানটি আশাপ্রদ অবস্থায় ছিল না। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলেও প্রাক্তন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে না। আপনি কথা বলতে পারেন প্রতিষ্ঠানের গতিশীলতার অভাব নিয়ে। বলতে পারেন, আপনার কাজের দায়িত্ব, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য এর সাথে সামঞ্জস্য ছিল না। আপনার প্রয়োজন আরো প্রতিশ্রুতিশীল চাকরি অথবা অন্যকিছু যা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ববিরোধী নয়। যদি কোন কারনে চাকরি চলে যায়, তবে আপনি অবশ্যই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা বলবেন। যাই হোক মিথ্যা বলবেন না। আপনি যদি প্রাক্তন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ইতিবাচক কিছু বলতে নাও চান তবে কিছুই না বলাই ভালো।